সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্কের প্রত্যাশা বাড়ছে | জরিপের ফল
- Update Time : ০৪:৪০:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 14
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের সম্পর্কের সুন্দর ছবি ও ভিডিও দেখে নিজের সম্পর্কের সঙ্গে তুলনা করা এখন অনেকের মধ্যে সাধারণ হয়ে উঠেছে। দামি উপহার, বিশেষ আয়োজন বা রোমান্টিক মুহূর্ত দেখে অনেকে সঙ্গীর কাছ থেকে একই ধরনের মনোযোগ ও আয়োজন আশা করতে শুরু করেন। সেই আশা পূরণ না হলে সম্পর্কে হতাশা, অভিমান এবং দ্বন্দ্ব দেখা দিতে পারে।
সম্প্রতি এক বড় জরিপে উঠে এসেছে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সম্পর্কবিষয়ক কনটেন্ট মানুষের প্রেম ও ডেটিংয়ের ধারণাকে প্রভাবিত করছে। এসব ভিডিওতে সম্পর্কের জটিল সমস্যার সহজ সমাধান দেখানো হলেও বাস্তব জীবনের প্রতিটি সম্পর্ক আলাদা। ফলে অনলাইনে দেখা পরামর্শ নিজের সম্পর্কে সরাসরি প্রয়োগ করতে গিয়ে অনেকে ভুল বোঝাবুঝিতে জড়িয়ে পড়েন।
ভারতের ডেটিং অ্যাপ কোয়াককোয়াক ২২ থেকে ৩৮ বছর বয়সি ১০ হাজারের বেশি মানুষের মতামত নিয়ে এক জরিপ চালিয়েছে। বড় শহর থেকে ছোট শহর পর্যন্ত ডেটিংয়ে থাকা ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে দেখা গেছে, সামাজিক মাধ্যমের সম্পর্কবিষয়ক কনটেন্ট দেখে অনেকে নিজেদের সম্পর্ককে নতুন করে মূল্যায়ন করেন। তবে অনলাইনে পাওয়া পরামর্শ সব যুগলের জন্য সমানভাবে কার্যকর হয় না।
কোয়াককোয়াকের জরিপে যা বেরিয়েছে
ভারতের ডেটিং অ্যাপ কোয়াককোয়াক ২২ থেকে ৩৮ বছর বয়সি ১০ হাজারের বেশি মানুষের মতামত নিয়ে জরিপ চালিয়েছে। বড় শহর থেকে ছোট শহর পর্যন্ত ডেটিংয়ে থাকা ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে দেখা গেছে, সামাজিক মাধ্যমের সম্পর্কবিষয়ক কনটেন্ট দেখে অনেকে নিজেদের সম্পর্ককে নতুন করে মূল্যায়ন করেন। তবে অনলাইনে পাওয়া পরামর্শ সব যুগলের জন্য সমানভাবে কার্যকর হয় না।
ভাইরাল পরামর্শ কি অতিরিক্ত প্রত্যাশা তৈরি করছে?
সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই বলা হয়—সত্যিকারের ভালোবাসা থাকলে সঙ্গী নিজে থেকেই সব বুঝে নেবেন বা ভালোবাসার প্রমাণ হিসেবে বিশেষ কিছু করবেন। এ ধরনের কনটেন্ট দেখে অনেকে নিজের সঙ্গীর কাছ থেকেও একই আচরণ আশা করতে শুরু করেন। আশা পূরণ না হলে অভিমান জন্ম নেয়, যা কখনো কখনো বড় দ্বন্দ্বে রূপ নিতে পারে।
জরিপে ২৫ বছরের বেশি বয়সি ৪ হাজার ৬৯৪ জনের মতামত বিশ্লেষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই মনে করেন, সব সম্পর্কের জন্য একই নিয়ম বেঁধে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। উদাহরণস্বরূপ, কর্মব্যস্ত দিনের পর কেউ একা কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে সেটিকে সবসময় সঙ্গীর প্রতি অনাগ্রহ বলে ভাবা ঠিক নয়। জরিপে অংশ নেওয়া ৬০ শতাংশ পুরুষ এমন ধারণার সঙ্গে দ্বিমত জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ৩৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, বড় আয়োজন করে ডেটের ব্যবস্থা করতে না পারলেই কাউকে কম যত্নশীল ভাবা উচিত নয়।
কোয়াককোয়াকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী রবি মিত্তাল বলেন, সম্পর্কে বাস্তব পরিস্থিতি ও পারস্পরিক বোঝাপড়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া প্রতিটি পরামর্শ যাচাই না করে নিজের সম্পর্কে প্রয়োগ করা ঠিক নয়। সঙ্গীর ফোন না করা কখনো অবহেলা মনে হতে পারে, কিন্তু প্রতিটি পরিস্থিতিতে এর অর্থ একই নয়।
অতিরিক্ত প্রত্যাশা তৈরি হচ্ছে কি?
সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই বলা হয়—সত্যিকারের ভালোবাসা থাকলে সঙ্গী নিজে থেকেই সব বুঝে নেবেন বা ভালোবাসার প্রমাণ হিসেবে বিশেষ কিছু করবেন। এ ধরনের কনটেন্ট দেখে অনেকে নিজের সঙ্গীর কাছ থেকেও একই আচরণ আশা করতে শুরু করেন। আশা পূরণ না হলে অভিমান জন্ম নেয়, যা কখনো কখনো বড় দ্বন্দ্বে রূপ নিতে পারে।
জরিপে ২৫ বছরের বেশি বয়সি ৪ হাজার ৬৯৪ জনের মতামত বিশ্লেষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই মনে করেন, সব সম্পর্কের জন্য একই নিয়ম বেঁধে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। উদাহরণস্বরূপ, কর্মব্যস্ত দিনের পর কেউ একা কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে সেটিকে সবসময় সঙ্গীর প্রতি অনাগ্রহ বলে ভাবা ঠিক নয়। জরিপে অংশ নেওয়া ৬০ শতাংশ পুরুষ এমন ধারণার সঙ্গে দ্বিমত জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ৩৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, বড় আয়োজন করে ডেটের ব্যবস্থা করতে না পারলেই কাউকে কম যত্নশীল ভাবা উচিত নয়।
কোয়াককোয়াকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী রবি মিত্তাল বলেন, সম্পর্কে বাস্তব পরিস্থিতি ও পারস্পরিক বোঝাপড়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া প্রতিটি পরামর্শ যাচাই না করে নিজের সম্পর্কে প্রয়োগ করা ঠিক নয়। সঙ্গীর ফোন না করা কখনো অবহেলা মনে হতে পারে, কিন্তু প্রতিটি পরিস্থিতিতে এর অর্থ একই নয়।
ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব যে পুরোপুরি নেতিবাচক, এমনটিও মনে করেন না অংশগ্রহণকারীরা। জরিপে ৪৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, সম্পর্কের ওপর সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। ত্রিশের কোঠায় থাকা নারীদের প্রায় ২৭ শতাংশের মতে, সম্পর্কবিষয়ক কনটেন্ট কখনো কখনো বিভিন্ন বিষয় নতুনভাবে বুঝতে সাহায্য করে।
এছাড়া প্রতি ১০ জনে চারজন জানিয়েছেন, অন্যের সম্পর্কবিষয়ক পোস্ট বা ভিডিও থেকে তারা ব্যক্তিগত সীমারেখা এবং সম্পর্কে নিজেদের প্রয়োজন সম্পর্কে কিছু বিষয় শিখেছেন। সঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারলে এসব কনটেন্ট সম্পর্কের কিছু দিক বুঝতে সহায়ক হতে পারে।
সাজানো মুহূর্তের সঙ্গে তুলনা
সামাজিক মাধ্যমে দেখা রোমান্টিক দৃশ্য অনেক সময় একটি সম্পর্কের নির্বাচিত কিছু মুহূর্ত মাত্র। নিখুঁত ছবি, বিশেষ আয়োজন বা বারবার ধারণ করা ভিডিওর মাধ্যমে সম্পর্কের সুন্দর দিকগুলোই তুলে ধরা হয়। ফলে দর্শকেরা জানলেও যে অনলাইনে একটি সম্পর্কের পুরো চিত্র দেখা যায় না, তবু অনেকেই নিজের জীবনের সঙ্গে সেসব দৃশ্যের তুলনা করেন।
জরিপে ৩ হাজার ৩৪৭ জন অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, তারা জানেন সামাজিক মাধ্যমে সম্পর্কের বাছাই করা মুহূর্তগুলোই বেশি প্রকাশ করা হয়। তারপরও সেগুলোর সঙ্গে নিজেদের সম্পর্কের তুলনা করার প্রবণতা তাদের মধ্যে রয়েছে।
অংশগ্রহণকারীদের একাংশের মতে, সামাজিক মাধ্যমে জমকালো বিয়ের প্রস্তাব, দামি উপহার বা স্বপ্নের মতো যুগল ছবির প্রচলন সাধারণ সম্পর্ককেও কখনো কখনো অপর্যাপ্ত বলে মনে করাতে পারে। অন্যের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া ইতিবাচক হলেও তা তুলনার কারণ হয়ে দাঁড়ালে নিজের সম্পর্কের ছোট ছোট ভালোবাসার প্রকাশগুলোও গুরুত্ব হারাতে পারে।
সুস্থ সম্পর্ক গড়তে কী করা উচিত?
অন্যের প্রেমের দৃশ্য দেখে সঙ্গীর কাছ থেকে একই ধরনের আচরণ আশা করার আগে নিজের চাহিদা ও প্রত্যাশা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। সম্পর্কে বেশি সময় কাটানো, নিয়মিত যোগাযোগ বা মানসিক আশ্বাস—কোন বিষয়টি নিজের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তা সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা যেতে পারে।
মনে রাখা জরুরি, প্রতিটি মানুষের ভালোবাসা প্রকাশের ধরন আলাদা। কেউ উপহার দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করেন, কেউ সময় দিয়ে, আবার কেউ দায়িত্ব পালন ও পাশে থাকার মাধ্যমে যত্ন দেখান। তাই সামাজিক মাধ্যমে দেখা সম্পর্কের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের তুলনা না করে দুজনের চাহিদা, সীমারেখা ও বোঝাপড়াকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সবশেষে বলা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সম্পর্ক সম্পর্কে নতুন ধারণা দিতে পারে, আবার অবাস্তব প্রত্যাশাও তৈরি করতে পারে। অন্যের সম্পর্কের সাজানো মুহূর্তকে আদর্শ ধরে নেওয়ার পরিবর্তে নিজের সম্পর্কের বাস্তবতা বোঝা এবং পারস্পরিক সম্মান, যোগাযোগ ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়াই দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।









