গাজীপুরে অগ্নিকাণ্ডে দুই শিশুসহ চারজন দগ্ধ, পরিবারের অভিযোগ নাশকতা - আলোকিত চোখ
ঢাকা ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজীপুরে অগ্নিকাণ্ডে দুই শিশুসহ চারজন দগ্ধ, পরিবারের অভিযোগ নাশকতা

Reporter Name
  • Update Time : ০৫:২৬:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 11

গাজীপুরে অগ্নিকাণ্ড

Spread the love

শিরোনাম: গাজীপুর মহানগরীর সদর মেট্রো থানাধীন মাঝিখোলা এলাকায় শুক্রবার সকালে এক বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে একই পরিবারের দুই শিশুসহ চারজন দগ্ধ হয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনাকে সাধারণ দুর্ঘটনা না বলে ইচ্ছাকৃত নাশকতা বলে দাবি করা হয়েছে।

সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে নিজেদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। দগ্ধদের মধ্যে রয়েছেন ব্যবসায়ী মহসিন প্রধান রুবেল (৩২), তাঁর স্ত্রী সাদিয়া বেগম ওরফে সুবর্ণা (২৬) এবং তাঁদের দুই অবুঝ সন্তান সোয়াদ প্রধান (৩) ও সাইয়ান প্রধান (৬)। ঘটনার সময় পরিবারের সবাই বাড়িতে ছিলেন বলে জানা গেছে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, সাদিয়া বেগমের শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে, যা সবচেয়ে গুরুতর। মহসিন প্রধানের শরীরে ১ শতাংশ, বড় ছেলে সাইয়ানের ১২ শতাংশ এবং ছোট ছেলে সোয়াদের ২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসকরা তাঁদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।

আহতদের প্রথমে দ্রুত গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে তাঁদের ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তাঁরা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি রয়েছেন এবং চিকিৎসাধীন আছেন।

মহসিন প্রধানের ভাগনি সুমাইরা ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বসতঘরের জানালা দিয়ে আগুন লাগানো হয়েছে বলে পরিবারের সন্দেহ। তিনি বলেন, বাড়ির গেটসংলগ্ন ডাইনিং রুমের সোফায় হঠাৎ আগুন জ্বলতে দেখে মহসিন দ্রুত পানি দিয়ে তা নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুন অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পানি দেওয়ার পরও আগুনের তীব্রতা বাড়ায় পরিবারের ধারণা, গানপাউডার বা অনুরূপ কোনো দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ এবং এতে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিবার আরও জানায়, তাঁরা এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চান।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, দগ্ধ চারজনই বর্তমানে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে চিকিৎসকরা নিবিড় নজরদারি করছেন।

গাজীপুর সদর মেট্রো থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, আগুনের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি জানান।

এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ফায়ার সার্ভিসকেও অবহিত করেছিলেন বলে জানা গেছে। পরিবারের সদস্যরা আহতদের সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

গাজীপুরে অগ্নিকাণ্ডে দুই শিশুসহ চারজন দগ্ধ, পরিবারের অভিযোগ নাশকতা

Update Time : ০৫:২৬:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
Spread the love

শিরোনাম: গাজীপুর মহানগরীর সদর মেট্রো থানাধীন মাঝিখোলা এলাকায় শুক্রবার সকালে এক বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে একই পরিবারের দুই শিশুসহ চারজন দগ্ধ হয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনাকে সাধারণ দুর্ঘটনা না বলে ইচ্ছাকৃত নাশকতা বলে দাবি করা হয়েছে।

সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে নিজেদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। দগ্ধদের মধ্যে রয়েছেন ব্যবসায়ী মহসিন প্রধান রুবেল (৩২), তাঁর স্ত্রী সাদিয়া বেগম ওরফে সুবর্ণা (২৬) এবং তাঁদের দুই অবুঝ সন্তান সোয়াদ প্রধান (৩) ও সাইয়ান প্রধান (৬)। ঘটনার সময় পরিবারের সবাই বাড়িতে ছিলেন বলে জানা গেছে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, সাদিয়া বেগমের শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে, যা সবচেয়ে গুরুতর। মহসিন প্রধানের শরীরে ১ শতাংশ, বড় ছেলে সাইয়ানের ১২ শতাংশ এবং ছোট ছেলে সোয়াদের ২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসকরা তাঁদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।

আহতদের প্রথমে দ্রুত গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে তাঁদের ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তাঁরা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি রয়েছেন এবং চিকিৎসাধীন আছেন।

মহসিন প্রধানের ভাগনি সুমাইরা ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বসতঘরের জানালা দিয়ে আগুন লাগানো হয়েছে বলে পরিবারের সন্দেহ। তিনি বলেন, বাড়ির গেটসংলগ্ন ডাইনিং রুমের সোফায় হঠাৎ আগুন জ্বলতে দেখে মহসিন দ্রুত পানি দিয়ে তা নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুন অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পানি দেওয়ার পরও আগুনের তীব্রতা বাড়ায় পরিবারের ধারণা, গানপাউডার বা অনুরূপ কোনো দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ এবং এতে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিবার আরও জানায়, তাঁরা এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চান।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, দগ্ধ চারজনই বর্তমানে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে চিকিৎসকরা নিবিড় নজরদারি করছেন।

গাজীপুর সদর মেট্রো থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, আগুনের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি জানান।

এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ফায়ার সার্ভিসকেও অবহিত করেছিলেন বলে জানা গেছে। পরিবারের সদস্যরা আহতদের সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।