ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তি শুক্রবার, খুলতে পারে হরমুজ প্রণালি
- Update Time : ০৫:২৮:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
- / 27
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে নতুন এক কূটনৈতিক অগ্রগতির খবর সামনে এসেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি শান্তিচুক্তির খসড়ায় নীতিগত সম্মতিতে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে।
চুক্তি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি আবারও স্বাভাবিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে, চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রণালিটি জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
প্রথমদিকে ট্রাম্প দ্রুত প্রণালি খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও পরে তিনি স্পষ্ট করেন যে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পরই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি এখন শুক্রবারের সম্ভাব্য চুক্তির দিকে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সমঝোতায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। চুক্তি কার্যকর হওয়ার এক মাসের মধ্যে এ অবরোধ তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের বড় একটি অংশ এই জলপথের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালিটি পুনরায় সচল হলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রণালি চালু হওয়ার পর সেখানে চলাচলকারী জাহাজ থেকে কোনো ধরনের টোল আদায় করা হবে না। তিনি এটিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে পারমাণবিক ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প সম্ভাব্য এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে ইরানকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে পারস্পরিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় ইরানের বিভিন্ন বন্দরের ওপর আরোপ করা হয় নৌ অবরোধ, যা দেশটির সামুদ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।


















