যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকে অগ্রগতি, তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিলের দাবি তেহরানের
- Update Time : ০৮:৪৮:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
- / 17
সুইজারল্যান্ডে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর তেহরানের বড় দাবি, পুনর্গঠন পরিকল্পনার কথাও জানালেন আব্বাস আরাঘচি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, দেশটির তেল ও তেলজাত পণ্যের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে বিদেশে আটকে থাকা ইরানের কিছু বাজেয়াপ্ত সম্পদও আংশিকভাবে ছাড় করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের স্টান্সস্ট্যাড এলাকার লুসার্ন হ্রদের তীরে অবস্থিত বুর্গেনস্টক রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠক শেষে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরানের অর্থনীতি পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য একটি বড় পরিসরের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে বাজেয়াপ্ত সম্পদের পরিমাণ বা পুনর্গঠন পরিকল্পনার বিস্তারিত বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসও কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি জানায়, ইরানের প্রতিনিধি দলের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হোসেইন গোরবানজাদেহ বলেছেন—মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের তেল ও তেলজাত পণ্যের ওপর সাময়িক ছাড় দেওয়ার বিষয়ে একটি খসড়া চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
লেবানন সংকট নিরসনে অগ্রগতি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও দাবি করেন, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় লেবানন যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি জানান, এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে একটি “ডি-কনফ্লিকশন সেল” গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা লেবাননের সামরিক উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখবে।
কাতার ও পাকিস্তান এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই সমন্বয় সেল গঠনে সম্মত হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, আলোচনাটি “ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে” অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে “উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি” হয়েছে।
চুক্তির রূপরেখা ও পরবর্তী আলোচনা
যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক তদারকি নিশ্চিত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনে দুই পক্ষ একমত হয়েছে। প্রধান আলোচকরা নিয়মিতভাবে এই কমিটিকে অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত করবেন।
এছাড়া পারমাণবিক ইস্যু, নিষেধাজ্ঞা এবং ভবিষ্যৎ সমঝোতার বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের জন্য একটি মনিটরিং ও বিরোধ নিষ্পত্তি গ্রুপ গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
দুই পক্ষ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সে অনুযায়ী সুইজারল্যান্ডে চলমান কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অগ্রগতি বাস্তবায়িত হলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্ক নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।


















