চট্টগ্রাম বন্দরে এলো ৪ আধুনিক গ্যান্ট্রি ক্রেন, পিসিটির সক্ষমতা বাড়বে ৬ লাখ টিইইউএসে
- Update Time : ০৫:৩৫:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
- / 29
চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত সংযোজন হতে যাচ্ছে। পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল (আরএসজিটি) চারটি নতুন কুয়ে গ্যান্ট্রি ক্রেন দেশে নিয়ে এসেছে, যা বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং ব্যবস্থায় নতুন গতি যোগ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিশেষায়িত পরিবহন জাহাজ ‘এমভি ল্যান হাই হং ইউন’-এর মাধ্যমে আনা এসব ক্রেন শুক্রবার সন্ধ্যায় পিসিটি জেটিতে পৌঁছায়। জাহাজটির নিরাপদ নোঙর নিশ্চিত করতে বন্দরের পাইলট ও টাগবোটগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে।
জানা গেছে, আধুনিক প্রযুক্তির এসব ক্রেন সংগ্রহে প্রায় ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে আরএসজিটি। চীনের সানি মেরিন হেভি ইন্ডাস্ট্রিজে নির্মিত ক্রেনগুলো দীর্ঘ প্রস্তুতি ও পরীক্ষার পর বাংলাদেশে আনা হয়েছে।
বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক মানের এই গ্যান্ট্রি ক্রেনগুলো চালু হলে বড় আকারের কনটেইনারবাহী জাহাজ থেকে দ্রুত পণ্য ওঠানো-নামানো সম্ভব হবে। ফলে জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড সময় কমবে এবং বন্দর ব্যবহারে ব্যবসায়ীদের ব্যয়ও হ্রাস পাবে।
নিরাপত্তার স্বার্থে ক্রেন খালাসের সময় কর্ণফুলী নদীর পিসিটি সংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন ধরনের নৌযানের চলাচলে সতর্কতা জারি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে পিসিটির বার্ষিক কনটেইনার পরিচালনা সক্ষমতা প্রায় আড়াই লাখ টিইইউএস। নতুন চারটি ক্রেন যুক্ত হলে সেই সক্ষমতা ৬ লাখ টিইইউএস পর্যন্ত উন্নীত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও দ্রুত সম্পন্ন হবে।
এর আগে টার্মিনালের অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ১৪টি রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি (আরটিজি) ক্রেনও সংগ্রহ করে আরএসজিটি। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে পিসিটির মাধ্যমে ১ লাখ ৪৩ হাজার টিইইউএস কনটেইনার পরিচালিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের পরিচালনার দায়িত্ব ২০২৩ সালের শেষ দিকে ২২ বছরের জন্য পায় আরএসজিটি। প্রতিষ্ঠানটি টার্মিনালের আধুনিকায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে মোট ১৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।










