সংসদ অধিবেশনে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি ও এমপিদের আড্ডায় কড়া হুঁশিয়ারি স্পিকারের
- Update Time : ০৫:৪১:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
- / 45
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি ও এমপিদের গ্রুপ আড্ডা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন (ফাইল ছবি)
জাতীয় সংসদ চলাকালীন মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি এবং সংসদ সদস্যদের অধিবেশন কক্ষে ছোট ছোট গ্রুপে আড্ডা ও গল্পগুজব নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, সংসদ অধিবেশন রাষ্ট্রের অন্য যেকোনো কাজের তুলনায় অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ।
মঙ্গলবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরুর আগে এসব মন্তব্য করেন স্পিকার।
টেলিফোন ডাইরেক্টরি প্রকাশে বিলম্ব
অধিবেশন শুরুর পর রাজশাহীর সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান একটি নোটিশে জানান, সদস্যদের কাজে সুবিধার জন্য সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদের যোগাযোগের তথ্যসংবলিত ডাইরেক্টরি দ্রুত প্রকাশ করা প্রয়োজন। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী শপথ গ্রহণের কয়েক মাসের মধ্যেই এটি বের হয়ে যায়। কিন্তু এবার চার মাস পেরিয়ে গেলেও সদস্যরা এখনো তা হাতে পাননি।
এর উত্তরে স্পিকার বলেন, জাতীয় সংসদ সচিবালয় টেলিফোন সহায়িকা-২০২৬ প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। কয়েকজন সংসদ সদস্য এখনো তাদের তথ্য জমা না দেওয়ায় প্রক্রিয়াটি কিছুটা পিছিয়ে গেছে। সংসদীয় কমিটি গঠনের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটি প্রকাশ করা হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট সদস্যদের দ্রুত তথ্য জমা দিতে অনুরোধ জানান।
পয়েন্ট অব অর্ডারে উত্তপ্ত বিতর্ক
পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে মির্জা আব্বাসের স্বাস্থ্যের সর্বশেষ অবস্থা, ঋণখেলাপি মামলায় জড়িত সরকারি দলের দুই সংসদ সদস্যের পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য চেয়েছিলেন।
চিফ হুইপ এই বিষয়গুলোকে অপ্রাসঙ্গিক বলে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, এ ধরনের বাইরের ইস্যু নিয়ে সংসদের মূল্যবান সময় নষ্ট করা ঠিক নয়।
স্পিকার জানান, মির্জা আব্বাস চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছেন যে তার স্বাস্থ্য ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। সুস্থ হয়ে উঠলে তিনি সংসদে ফিরবেন। তিনি আরও বলেন, আদালতে চলমান মামলা বা গুজব নিয়ে সংসদে আলোচনা করে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। কোনো সদস্যের সদস্যপদ বাতিল হলে তা যথাসময়ে সংসদকে জানানো হবে।
বিরোধীদলীয় নেতার অভিযোগ
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদের কার্যক্রমে সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাজেট অধিবেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়েও অনেক মন্ত্রী উপস্থিত থাকেন না, বিশেষ করে যাদের মন্ত্রণালয় নিয়ে সদস্যরা এলাকার সমস্যা তুলে ধরতে চান। এছাড়া অধিবেশন চলার সময় কক্ষের ভেতরেই ছোট ছোট গ্রুপে আলোচনা চলায় সংসদের পরিবেশ ও শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে।
স্পিকারের কড়া নির্দেশনা
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য শুনে স্পিকার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান। তিনি অধিবেশন কক্ষের ভেতরে ছোট গ্রুপে আলোচনা এবং ফ্লোর ক্রসিং পুরোপুরি বন্ধ করার কঠোর নির্দেশ দেন। সংসদের মর্যাদা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সব সংসদ সদস্যের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।























