পর্দার চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলেন- ফারজানা এ্যানি
- Update Time : ০৫:৫৯:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
- / 4
শুধু অভিনয় বা সংলাপ নয়, একটি চরিত্র দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলে তার বাহ্যিক উপস্থাপনার মাধ্যমেও। পোশাকের রং, কাটছাঁট, মেকআপ, চুলের স্টাইল কিংবা একটি ছোট অলংকার — এসব উপাদানই চরিত্রের ব্যক্তিত্ব ও মানসিক অবস্থাকে দর্শকের সামনে তুলে ধরে। আর এই শিল্পকেই নিজের মতো করে এগিয়ে নিচ্ছেন তরুণ লুক ও কস্টিউম ডিজাইনার ফারজানা এ্যানি।
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের সিনেমা ও ওয়েব সিরিজে ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনায় লক্ষণীয় পরিবর্তন এসেছে। নির্মাতারা এখন চরিত্রের জন্য আলাদা মুড বোর্ড, কস্টিউম রিসার্চ এবং লুক ডেভেলপমেন্টের ওপর জোর দিচ্ছেন। সেই ধারায় এবারের ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ওয়েব সিরিজ ‘ক্যাকটাস’-এ ফারজানা এ্যানির কাজ দর্শকদের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে মেহেজাবিন চৌধুরী, আরেফিন জিলানী ও প্রীতমের চরিত্রে তার ডিজাইন করা লুক ছিল একেবারে নতুন ও স্বতন্ত্র।
চরিত্রের ভেতরের গল্প বলে লুক
ফারজানা এ্যানির মতে, লুক ডিজাইনারের কাজ শুধু অভিনেতাকে আকর্ষণীয় করে তোলা নয়, বরং চরিত্রের অভ্যন্তরীণ জগতকে দৃশ্যমান করা। তিনি প্রতিটি চরিত্রের জন্য আলাদা মুড বোর্ড তৈরি করেন। গথিক নান্দনিকতা, ডার্ক কালার, সমসাময়িক ফ্যাশন এবং কে-পপ স্টাইলের মিশ্রণে গড়ে তোলেন চরিত্রের স্বকীয় রূপ।
তবে এই কাজ সহজ নয়। ক্যামেরার আলো, ফ্রেমিং এবং কালার গ্রেডিংয়ের কারণে পোশাকের চূড়ান্ত উপস্থাপন অনেক সময় বাস্তবের থেকে ভিন্ন হয়ে যায়। তাই পরিচালক, সিনেমাটোগ্রাফার, মেকআপ আর্টিস্ট ও কস্টিউম টিমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রস্তুতির পর চূড়ান্ত লুক তৈরি করতে হয়।

স্বীকৃতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
তার এই সৃজনশীলতার স্বীকৃতিও এসেছে। চরকি অ্যাওয়ার্ডসে ক্রিটিকস চয়েস ক্যাটাগরিতে মনোনয়নের পাশাপাশি BIFA অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫-এ বেস্ট কস্টিউম ডিজাইনার সম্মাননা লাভ করেছেন ফারজানা এ্যানি।
ব্যক্তিগতভাবে তিনি ফ্যাশনকে স্বকীয়তার প্রকাশ হিসেবে দেখেন। কাজের ক্ষেত্রে তিনি সবসময় নতুন টেক্সচার, আন্তর্জাতিক ট্রেন্ড এবং গবেষণাভিত্তিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যেতে চান।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও ওয়েব কনটেন্টে লুক ডিজাইনের যে নতুন ভাষা তৈরি হচ্ছে, তার পেছনে ফারজানা এ্যানির মতো নীরব শিল্পীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। পর্দায় যে চরিত্রগুলো দর্শককে মুগ্ধ করে, তার অনেকটাই গড়ে ওঠে ক্যামেরার আড়ালে এমন সৃজনশীলদের হাতে।



















