রান্নাঘরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি: নতুন গবেষণার তথ্য - আলোকিত চোখ
ঢাকা ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রান্নাঘরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি: নতুন গবেষণার তথ্য

Reporter Name
  • Update Time : ১০:০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • / 2
Spread the love

সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে, রান্নাঘরের স্পঞ্জে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি রয়েছে। এই তথ্যটি আমেরিকান গণমাধ্যম সাইন্স ডেইলিতে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, স্পঞ্জ ব্যবহারের ফলে ক্ষয় হয়ে যায় এবং এর মাধ্যমে ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণা পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।

জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ‘স্পঞ্জবট’ নামক একটি স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র ব্যবহার করে পরীক্ষা চালান, যা মানুষের থালা-বাসন ধোয়ার ভঙ্গি নকল করে। গবেষণায় দেখা গেছে, স্পঞ্জের ধরনভেদে প্রতি ব্যক্তি প্রতি বছর ০.৬৮ গ্রাম থেকে ৪.২১ গ্রাম পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিবেশে নির্গত করতে পারেন।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, যদি জার্মানির প্রতিটি পরিবার একটি নির্দিষ্ট ধরনের স্পঞ্জ ব্যবহার করে, তবে প্রতি বছর প্রায় ৩৫৫ টন মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিবেশে জমা হতে পারে। যদিও বর্জ্য শোধনাগারগুলো এর বড় অংশ আটকে দেয়, তবুও প্রতি বছর বেশ কয়েক টন কণা নদী, হ্রদ এবং সমুদ্রে মিশে যাচ্ছে।

গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে যে, থালা-বাসন মাজার ক্ষেত্রে পানির অতিরিক্ত ব্যবহার পরিবেশের ওপর বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, হাতে থালা-বাসন ধোয়ার ক্ষেত্রে পরিবেশগত ক্ষতির ৮৫ থেকে ৯৭ শতাংশ দায়ী হলো পানির অপচয়।

গবেষকরা সাধারণ মানুষের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন, যা রান্নাঘর থেকে শুরু করে সমুদ্র পর্যন্ত পরিবেশকে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত রাখতে সহায়তা করবে। আধুনিক জীবনযাপনের সুবিধার পাশাপাশি প্রকৃতির কথা ভাবা এখন সময়ের দাবি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রান্নাঘরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি: নতুন গবেষণার তথ্য

Update Time : ১০:০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
Spread the love

সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে, রান্নাঘরের স্পঞ্জে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি রয়েছে। এই তথ্যটি আমেরিকান গণমাধ্যম সাইন্স ডেইলিতে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, স্পঞ্জ ব্যবহারের ফলে ক্ষয় হয়ে যায় এবং এর মাধ্যমে ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণা পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।

জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ‘স্পঞ্জবট’ নামক একটি স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র ব্যবহার করে পরীক্ষা চালান, যা মানুষের থালা-বাসন ধোয়ার ভঙ্গি নকল করে। গবেষণায় দেখা গেছে, স্পঞ্জের ধরনভেদে প্রতি ব্যক্তি প্রতি বছর ০.৬৮ গ্রাম থেকে ৪.২১ গ্রাম পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিবেশে নির্গত করতে পারেন।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, যদি জার্মানির প্রতিটি পরিবার একটি নির্দিষ্ট ধরনের স্পঞ্জ ব্যবহার করে, তবে প্রতি বছর প্রায় ৩৫৫ টন মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিবেশে জমা হতে পারে। যদিও বর্জ্য শোধনাগারগুলো এর বড় অংশ আটকে দেয়, তবুও প্রতি বছর বেশ কয়েক টন কণা নদী, হ্রদ এবং সমুদ্রে মিশে যাচ্ছে।

গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে যে, থালা-বাসন মাজার ক্ষেত্রে পানির অতিরিক্ত ব্যবহার পরিবেশের ওপর বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, হাতে থালা-বাসন ধোয়ার ক্ষেত্রে পরিবেশগত ক্ষতির ৮৫ থেকে ৯৭ শতাংশ দায়ী হলো পানির অপচয়।

গবেষকরা সাধারণ মানুষের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন, যা রান্নাঘর থেকে শুরু করে সমুদ্র পর্যন্ত পরিবেশকে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত রাখতে সহায়তা করবে। আধুনিক জীবনযাপনের সুবিধার পাশাপাশি প্রকৃতির কথা ভাবা এখন সময়ের দাবি।